৬২০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা
একটি গেমিং প্রতিষ্ঠানের ৬২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকের জন্য উত্তর কোরিয়ার সরকার সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫৪০০ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা। গত মার্চে জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং কোম্পানি অ্যাক্সিইনফিনিটির খেলোয়াড়দের অ্যাকাউন্টে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।
শুক্রবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এফবিআই এর বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গত ২৯ মার্চ ৬২০ মিলিয়ন ডলারের ইথেরিয়াম চুরির সঙ্গে ল্যাজারাস ও এপিটি৩৮ নামের হ্যাকার দল জড়িত, যারা ডিপিআরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
অপরদিকে এএফপি আরও জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এত বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা এটাই প্রথম। এ কারণে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা নিয়ে। মূলত, একই কৌশলে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করার কয়েক সপ্তাহ পরই সামনে আসলো অ্যাক্সি ইনফিনিটির নির্মাতাদের কাছ থেকে গত মাসের চুরির বিষয়টি।
জানা গেছে, এ সাইবার হামলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ ইথার এবং ২৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউএসডিএস টোকেন লুট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল অংকের এ চুরির ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। অনেক কম্পিউটার কোড নিয়মিত অডিট করা হয় না। আর সে দুর্বলতাই কাজে লাগাচ্ছে হ্যাকাররা।
পশ্চিমের বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, উত্তর কোরিয়া সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হ্যাকিং। জাতিসংঘের প্যানেল ও নিরপেক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির নেতা কিম জং উন বেশ কয়েক বছর ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে নজর দিয়েছেন, যার অর্থায়নের একটি মূল উৎস হতে পারে হ্যাকিং।
এএফপি বলছে, অ্যাক্সি ইনফিনিটি এমন একটি গেমিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে খেলোয়াড়রা গেম খেলার মাধ্যমে এবং ভিডিও গেম বা ইন্টারনেট ফোরামে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আইকন বিক্রি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি উপার্জন করতে পারেন।
সাইবার হামলা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, আমাদের তদন্তে এ হামলার সাথে কুখ্যাত লাজারাস গ্রুপ এবং এপিটি৩৮ এর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি। উত্তর কোরিয়ার সাইবার কর্মীরাও এ হামলার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে এফবিআই।
প্রসঙ্গত, উত্তর কোরিয়ার সাইবার-প্রোগ্রামটি ৯০এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় বলে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে এটি একটি শক্তিশালী সাইবার যুদ্ধ ইউনিটে পরিণত হয়েছে।